সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অদ্য ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:০০ ঘটিকা হতে বিওএ এ্যাথলেট কমিশনের উদ্যোগে অলিম্পিক ভবনে, ক্রীড়াবিদদের জ্ঞান, সচেতনতা ও সামগ্রিক উন্নয়ন উদ্দ্যেশে ‘BOA Athletes’ Forum 2026’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ ফোরামে ক্রীড়াবিদদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিওএ এ্যাথলেটস কমিশনের কার্যক্রম ও সাম্প্রতিক অগ্রগতি সম্পর্কে অংশগ্রহনকারীদের অবহিত করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে Mental Health & Psychological Wellbeing in Sport, Safeguarding & Safe Sport, Anti-Doping & Clean Sport, Prevention of Manipulation in Competitions এবং Athlete Career Transition & Life After Sport বিষয়ে সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
Mental Health & Psychological Wellbeing in Sport বিষয়ে আলোচনা করেন Mindwizz-এর Founder & Chief Psychologist Mr. Faysal Ahmed Rafi। তিনি প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়াজীবনে ক্রীড়াবিদদের ওপর সৃষ্ট মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বার্নআউট এবং পারফরম্যান্স প্রত্যাশার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি এসব মানসিক চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা এবং প্রয়োজনবোধে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
Safeguarding & Safe Sport বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন SAFF-এর Head of Safeguarding Ms. Fatima Esha। তিনি ক্রীড়াঙ্গনে হয়রানি, নির্যাতন, বুলিং ও বৈষম্য প্রতিরোধের পাশাপাশি সকল ক্রীড়াবিদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন। ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
Anti-Doping & Clean Sport বিষয়ে আলোচনা করেন বিওএ অ্যান্টি-ডোপিং কমিটির Member-Secretary Dr. Mohammed Shafiqur Rahman। তিনি অ্যান্টি-ডোপিং কার্যক্রমে ক্রীড়াবিদদের অধিকার ও দায়িত্ব, নিষিদ্ধ পদার্থ ও পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা, Therapeutic Use Exemption (TUE), ডোপ টেস্টিং প্রক্রিয়া এবং সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করেন। তিনি পরিচ্ছন্ন ও ন্যায্য ক্রীড়া নিশ্চিত করতে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের এন্টি-ডোপিং বিধিবিধান সম্পর্কে সচেতন থাকার গুরুত্ব এবং খেলোয়াড়দের ডোপিং এর প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
এছাড়া, Prevention of Manipulation in Competitions বিষয়ে আলোচনা করেন International Hope School-এর Deputy Head of Students Affairs এবং জুডো কোচ Mr. Md. Shejan Ahmed Jahan। তিনি ম্যাচ-ফিক্সিং, অবৈধ বেটিং, সন্দেহজনক প্রস্তাব, রিপোর্টিং প্রক্রিয়া এবং খেলাধুলার সততা রক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে যথাযথ রিপোর্টিং প্রক্রিয়া অনুসরণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত সততা বজায় রেখে খেলাধুলার অখণ্ডতা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
Athlete Career Transition & Life After Sport বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাপরিচালক Brig. Gen. (Retd.) A B M Shefaul Kabir। তিনি প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া জীবন শেষ হওয়ার আগেই ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ, উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং ক্রীড়া জীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগানোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ক্রীড়াবিদদের অবসর-পরবর্তী জীবনের জন্য মানসিক ও পেশাগতভাবে প্রস্তুত হওয়ার জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সমাপনী পর্বে বিওএ এ্যাথলেটস কমিশনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মিসেস ফরহাদ জেসমিন লিটি, অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের বক্তব্য, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব জনাব মোঃ জোবায়েদুর রহমান বক্তব্য প্রদান করেন, প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। তিনি এ ধরনের সময়োপযোগী ও ক্রীড়াবিদ-কেন্দ্রিক আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ফোরামে আলোচিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের এসব বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান ও সচেতনতা থাকা প্রয়োজন। তিনি অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে আরও বলেন, ফোরাম থেকে অর্জিত জ্ঞান যেন শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে অন্যান্য ক্রীড়াবিদ, তরুণ প্রজন্ম ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এই জ্ঞান ও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধান অতিথি কর্তৃক অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণের মাধ্যমে ফোরামটির সমাপ্তি হয়।
ধন্যবাদান্তে,
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এ বি এম শেফাউল কবীর
এসজিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি
মহাপরিচালক